সিউটাত ভেলা জেলা, বা পুরানো শহরের পরিসীমা পূর্বতন নগর প্রাচীরের দ্বারা নির্ধারিত, এবং অঞ্চলটি এককালে ঐতিহাসিক বার্সেলোনা নগরকেন্দ্র দ্বারা অধিকৃত ছিল।

সিউটাত ভেলা মূলত বার্সেলোনা শহরের মূল অঞ্চলের অন্তর্গত ছিল। সুতরাং যখন আমরা সিউটাত ভেলা সম্পর্কে কথা বলি, আমরা শহরের ইতিহাস সম্পর্কে কথা বলছি, এর শুরু থেকেই। জেলাটির পশ্চিম সীমান্তে রয়েছে লে’ক্সাম্পলা, পূর্বে ভূমধ্যসাগর, উত্তরে সেন্ট মার্টি এবং দক্ষিণ সীমান্তে রয়েছে সান্স-মনজুইক। সিউটাত ভেলাতে চারটি পাড়া রয়েছে, যাদের প্রত্যেকটির রয়েছে নিজস্ব অনন্য ব্যক্তিত্ব। দক্ষিণে, বার্সেলোনেতা; পশ্চিমে, রাভাল; কেন্দ্রস্থলে, গোটিক; এবং পূর্ব দিকে, সান্ত পেরে, সান্তা ক্যাটরিনা ই লা রিবেরা।

সিউটাত ভেলা এমন একটি জেলা যেখানে রয়েছে সমস্ত কিছু: সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস, সমাজ এবং বিনোদন।

 

পাকিস্তানী গ্রোসারি, ভারতীয় টেক্সটাইল, ইটালিয়ান স্ট্রীট ফুড... রবালের 56% অধিবাসী বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসবার কারনে এই স্থানকে প্রকৃত প্রস্তাবে বিবিধ সংস্কৃতির একটি মিলনক্ষেত্র বলা চলে। এখানে স্প্যানিশ নাগরিক সম্প্রদায়ের পরেই দ্বিতীয় বৃহত্তম নাগরিক সম্প্রদায়ের মানুষরা এসেছেন পাকিস্তান থেকে, যারা অধিকাংশই দক্ষিন রাভালের আশেপাশে কর্মরত, এবং ফিলিপাইন্স থেকে, যারা প্রধানত উত্তর রাভালে কর্মরত রয়েছেন।

এল রাম্বলা থেকে প্যারাল-লেল পর্যন্ত বিস্তৃত এল রাভাল নামে পরিচিত এই প্যাঁচানো সংকীর্ন রাস্তাঘাট নিয়ে গঠিত অঞ্চলটিই বার্সেলোনার অতীত ও ভবিষ্যত। ঘন জনবসতিপূর্ণ এবং বিভিন্ন পাড়ার সমন্বয়ে গঠিত এই স্থানটি সর্বদা নবাগত মানুষদের স্বাগত জানিয়ে এসেছে এবং এখানকার নিজস্ব একটি অনন্য সাংস্কৃতিক জীবনযাত্রা রয়েছে।

রাভালের একটি অকৃত্রিম ব্যক্তিত্ব রয়েছে এবং এখানে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা এতই চিত্তাকর্ষক যে এটির জন্য একটি নতুন কাতালান শব্দ আবিষ্কৃত হয়েছে: ravalejar । এখন রাভালেহারের সময় এবং এই অকৃত্রিম পাড়ায় একটু ঘুরে বেড়ানো যাক।

গোটিক বা গথিক কোয়ার্টার ঐতিহ্য এবং ইতিহাসের জন্য উল্লেখযোগ্য। এই অঞ্চলটিতে শহরের সবচেয়ে বড় বড় আকর্ষণগুলি রয়েছে, যেমন প্লাসা রিয়্যাল, ক্যাথিড্রাল এবং এল কল। যদিও এটি বার্সেলোনার ব্যস্ততম পর্যটন অঞ্চলগুলির মধ্যে অন্যতম, তবে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের প্রাণপ্রিয় অঞ্চলটির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করার অসম্ভব কাজটিতে সদা সচেষ্ট থাকেন।

আপনি এই গথিক কোয়ার্টারের যত গভীরে প্রবেশ করবেন ততই ক্রমশ আপনি বার্সেলোনার শিকড়ের আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাবেন, যেখানে 2000 বছর পূর্বে রোমানরা বারসিনো প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজও আমরা প্রাচীন নগর-প্রাকারের ভগ্নাবশেষের মধ্যে প্রাচীন রোমান নগরীর স্মৃতিচিহ্নকে খুঁজে পাই।

এই অঞ্চলের সংকীর্ণ পথঘাট ও ছোট ছোট স্কোয়্যারগুলিতে আপনি স্বচ্ছন্দে ইচ্ছামত ঘুরে বেড়াতে পারেন এবং এখানকার আকর্ষণীয় সৌন্দর্য ও পরিবেশকে প্রাণ ভরে উপভোগ করতে পারেন। সেখানে আবিষ্কারযোগ্য প্রচুর আকর্ষণীয় ক্ষেত্র আছে।

অঞ্চলটির নাম থেকেই অনুমান করা যায় যে সান্ট পেরে, সান্তা ক্যাটরিনা ই লা রিবারে অঞ্চলটি তিনটি ছোট ছোট প্রশাসনিক অঞ্চল নিয়ে গঠিত। এই ইতিহাস বিজড়িত পাড়া গুলি ক্যাস্ক অ্যান্টিক বা পুরাতন নগর কেন্দ্র নামেও পরিচিত, এবং এগুলি পাসাইগ দা লুইস কোম্পানীস, সিউতাদেলা পার্ক, ভিয়া লায়েতানা, এবং বারসেলোনেটা ও লে’ক্সাম্পলার মত বৃহত্তর অঞ্চল গুলি নিয়ে গঠিত।

ক্যাসাক অ্যান্টিকের চত্বরে ও পথেঘাটে ভ্রমণের সময় আপনি মধ্যযুগীয় সময়কে অনুভব করতে পারবেন, যখন এটি ছিল শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গুলির অন্যতম, সমৃদ্ধ বণিক শ্রেণীর মানুষদের প্রাসাদ ও অট্টালিকায় পরিপূর্ণ।

এই কাস্ক অ্যান্টিক অঞ্চলেটির সৌভাগ্যের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে বার্সেলোনার বৃহত্তম পার্কটি, লা সিউটাদেলা, বর্ন অঞ্চলের চিত্রশালা, পিকাসো মিউজিয়াম, বার্সেলোনা চিড়িয়াখানা, ক্যাটালান পার্লামেন্ট এবং চিত্তাকর্ষক পালাউ দে লা ম্যুসিকা।

বার্সেলোনেতা প্রশস্ত সমুদ্রতীরবর্তী আশপাশ এলাকা। এখানকার সংকীর্ণ পথঘাট ও পরিবার-ভিত্তিক সমাজ এটিকে বড় শহরের হৈ-হট্টগোলের হাত থেকে আগলে রাখে। এখানকার নোনা হাওয়ায় বিবর্ণ বাড়ি গুলি, সূর্যাস্তের সময়ে ডকে ফেরা নৌকাদের সারি এবং সমুদ্রের পরিচিত গন্ধের মধ্যে দিয়ে এর ভূমধ্যসাগরীয় চরিত্রটি ফুটে ওঠে, ঠিক যেন কাতালান উপকূলের সাবেকি জেলেদের গ্রাম গুলির মতই।

এই স্থানের ইতিহাস আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় সুদূর অষ্টাদশ(18th) শতকে, যখন এটিকে বারোক পিরিয়ডের চিরাচরিত চৌকোনা নকশায় একটি নতুন বসতি রূপে গড়ে তোলা হয়েছিল যা এখনও প্রায় অবিকল একই রকম রয়েছে। সে কালে, এটি মূল প্রাচীরবদ্ধ নগরীর বাইরে একটি বালুকাময় অঞ্চল মাত্র ছিল।

বিংশ (20th) শতাব্দীর শুরুর দিকে, বার্সেলোনা সমুদ্রমুখী হয়ে উঠতে শুরু করলো। উপকূল বরাবর স্নানের অঞ্চল তৈরি হলো, এবং এটি বিশেষ করে বার্সেলোনেতার বসতি অঞ্চলে বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে, যার ফলে এখানে একটি আকর্ষণীয় নতুন ব্যবসার সূত্রপাত হয়: ফাইন ডাইনিং। সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা হাজারো স্নানার্থীদের খাওয়া দাওয়ার জন্য অসংখ্য পানশালা, সরাইখানা ও রেস্তোরাঁ গজিয়ে উঠতে থাকে।